বৃষ্টির জল কে এই ভাবে সংরক্ষন করে সারাবিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গুজরাটের এই স্কুলটি।

পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব বজায় রাখতে গেলে প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানীয় জলের। আমরা শুধু প্রকৃতি মায়ের কাছ থেকে কিছু না কিছু নিয়েই চলেছি তার পরিবর্তে যে তাকে ফেরত দিতে হবে তা তো আমরা ভুলেই বসেছি।

এই কারণেই মূলত জলস্তর অনেক নিচে নেমে গেছে, যে কারণে বহু জায়গায় পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। কিন্তু এখনও যে সমস্ত জায়গায় পানীয় জলের অভাব নেই সে সমস্ত জায়গায়তেও জলের অপচয় ভীষণ পরিমাণে হচ্ছে। মানুষকে বুঝিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

জল অপচয় রোধের জন্য বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারের পক্ষ থেকে বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র কয়েকটা এনজিও বা সরকারের একার চেষ্টায় এই জল অপচয় রোধ করা সম্ভব নয়। এই জন্য সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে আর বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করতে হবে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপায় বহু বছর আগেই সরকার দ্বারা সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছিল।

কিন্তু সেই উপায় কেউই সেভাবে আমলে নেয়নি। কিন্তু এবার গুজরাতের একটি স্কুলে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রদেশ প্রজাপতি মেহসানার তক্ষশিলা স্কুলের শিক্ষক। তিনি জানান তাদের স্কুলের মাঠে 25 হাজার লিটারের 4 টি মটকা বসানো হয়েছে। এই মটকাগুলি লোহার রডের সাহায্যে বসানো হয়নি, আরসিসি অনুযায়ীও বসানো হয়নি।

এই মটকাগুলিকে শুধুমাত্র ইট দিয়ে বানানো হয়েছে এবং প্লাস্টার করে মাটি দিয়ে এগুলিকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য ছাদের পাইপে চেম্বার বসানো হয়েছে। চেম্বারটি এমন ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে যখন জলের প্রয়োজন শুধুমাত্র তখনই জল মটকাগুলিতে যাবে অন্যথায় জল বয়ে বাইরে চলে যাবে।

বৃষ্টির জল মটকাতে যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন যায় তাই বৃষ্টি পড়ার প্রথম 15 মিনিট জল মটকাতে ভরে না। যখন ছাদ পরিষ্কার হয়ে যায় তখনই সেই জল মটকাগুলিতে জমা হতে থাকবে। প্রদেশ প্রজাপতি জানান যেই জল জমা হচ্ছে তা 10 থেকে 11 মাস ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন আগে তাদের প্রতি মাসে 4 টি করে ট্যাঙ্কার আনাতে হত। যার জন্যে খরচ হত প্রায় 15 হাজার থেকে 16 হাজার টাকা। কিন্তু এখন থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আর তাদের খরচ করতে হবে না। তাদের এই টেকনিক ব্যবহার করে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পারে।।

Leave a Reply